মালদা

মালদা টাউন স্টেশন হয়ে বহুবার উত্তরবঙ্গে যাতায়াত করলেও কখনও মালদা ঘুরে দেখা হয়নি | হোসেন শাহের মালদা আসলে মুর্শিদকুলির মুর্শিদাবাদের থেকেও পুরনো | নদিয়ার ভক্তি আন্দোলনেরও আগে গৌড়ে সমৃদ্ধ জনপদ ছিল | পরবর্তীকালে মালদার প্রত্নতত্ত্ব আর পর্যটন সমৃদ্ধির সেভাবে প্রচার হয়নি | আর এমনিও ঐতিহাসিক জিনিস-পত্র দেখবার জন্য সবাই আমার মত বাউল-খ্যাপা নয় তাই চিরকালই মালদা ভ্রমণের পিয়াসী লোকজন বড় কম | নিজের কথাও এক্ষেত্রে স্বীকার করে নেওয়া উচিত | পৈতৃক জেলা হওয়ার সুবাদে মুর্শিদাবাদ অগুনতিবার গেছি | কোনওরকম সম্পর্ক না থাকলেও যেতাম কারন মুর্শিদাবাদের প্রায় সবকিছুই ইউনেস্কো ওয়ার্ল্ড হেরিটেজ আর এমনিও ছোটবেলা থেকে ইতিহাস বইতে পলাশীর যুদ্ধের যেরকম বনপলাশীর পদাবলী পড়ানো হয় তাতে মুর্শিদাবাদ শুনলেই মনে ভীমপলাশী বেজে ওঠে | সিরাজ, ঘসেটি বেগমরা তো আছেই, আমি সিরাজের বেগম সিনেমার মীরজাফর মানে বিকাশ রায়ও মুর্শিদাবাদের পপুলারিটির জন্য যথেষ্ট দায়ী | মালদা সেভাবে দেখতে গেলে পরিচিতিহীন |লোকে জানে যে অনেক কিছু আছে তবে ঠিক কি কি আছে সেটা অধিকাংশ লোক জানেনা | তো সেসব জানতে আমি একদিন দুপুরবেলায় মালদা গিয়ে পড়লাম | ভেবেছিলাম জেলা পরিষদের সুদৃশ্য গেস্ট হাউসে উঠব কিন্তু গিয়ে শুনলাম কেন্দ্রীয় বাহিনী সেটায় ঘাঁটি গেড়েছে | তখন বিধানসভা ভোটের ঘোষণা হয়েছে কয়েকদিন হল | অগত্যা বাস স্ট্যান্ডের সামনেই একটা হোটেলে ঢুকে পড়লাম |

 

ছিমছাম হোটেল | সিঙ্গল বেডের ভাড়া নিল তিনশো টাকা | সংলগ্ন ওয়াশরুম উইথ ওয়েস্টার্ন স্টাইলের অপকর্ম করার জায়গা | হোটেলেই রেস্তোরাঁ আছে | সব পাওয়া যায় এমনকি তাওয়া বিরিয়ানিও | তা তখন প্রায় বিকেল | ব্যাগ রেখে বেরিয়ে রথবাড়ি মোড়ের কাছে এসে এক প্লেট চিকেন মোমো উড়িয়ে দিলুম | এখানে বলে রাখি, এই রথবাড়ি মোড়টি মালদা শহরের বেশ এসপ্লানেডের মত জায়গা | দূরপাল্লার বাসও এখানেই দাঁড়ায় | কাছেই বাস-স্ট্যান্ড | স্টেশন থেকেও খুব দূরে নয় | এই রথবাড়ি মোড় লাগোয়া অঞ্চলটাই ইংলিশ বাজার | নাম শুনে থাকবেন হয়তো টিভি বা পেপারের খবরে | ইংলিশ বাজার থানা পেরিয়ে মকদমপুর | সেখানে রাজ্য সরকারের যুব আবাস | ওই এলাকায় বেশ কিছু রোড-সাইড খাবারের দোকান আছে | অনেকটা আমাদের অফিস পাড়ার মত | রুটি, তরকা, ডাল ফ্রাই, চিকেন, মাটন সব | সারা সন্ধে পায়ে হেঁটে  একটু এদিক-ওদিক দেখে সেখানে খেয়ে এসে বিছানায় থিতু হলাম |

পরদিন সকাল নটা | রথবাড়ি মোড় | ব্রেকফাস্টে লুচি-তরকারি | সুন্দর একটা অটোর ব্যবস্থা করে ফেলেছি | গাড়ির কি দরকার | পাঁচশো টাকা নেবে | গৌড় ঘুরিয়ে দেবে |মেন জায়গাগুলো |  দুজন রয়েছি | কোনও চাপ নেই | গাড়ি স্টার্ট হল | ড্রাইভার দাদার নাম গৌরাঙ্গ | হাইওয়ে থেকে বেরিয়ে অন্য রাস্তা ধরলাম | সামনে আসছে গৌড় | যার নাম শুনেছি কত | আজ দেখব |

আসসালাতো খয়রুম মিনন নিওম | ঘুমানোর থেকে নামাজ পড়া ভাল | উঁচু মিনার থেকে ভোরবেলায় আজান দিচ্ছে এক অভিজ্ঞ মুয়াজ্জিন | তার পড়নের আলখাল্লা দেখতে পেলেও মুখটা ঝাপসা | সেটা তো হবেই | কল্পনায় কারও মুখ পরিষ্কার দেখা যায়না তো | গৌরাঙ্গদা আমাদের নিয়ে এসেছে বারদুয়ারী মসজিদে | আর তার সামনে দাঁড়িয়ে কল্পনায় আমি পৌঁছে গিয়েছি ১৫২৬ সালে | যে সালে সুলতান নসরত শাহ এই বারদুয়ারী মসজিদটি বানান | গৌড়ের সবথেকে সুন্দর ও গুরুত্ত্বপূর্ন শিল্পকীর্তি এই মসজিদ | ১২টি দরজা থাকায় নাম হয়েছে বারদুয়ারী কিন্তু আপাততঃ ১১টি দৃশ্যমান | নসরত শাহের সলতনত চলেছিল ১৫১৯ থেকে ১৫৩৩ অবধি আর ১৫২৬-এ তার এই অক্ষয় কীর্তি গৌড়ের হুলিয়া পাল্টে দিয়েছিল | খিলানের কাজ দিয়ে বানানো চারপাশের বারান্দাগুলো | মাঝখানে এখন আর গম্বুজ নেই | মাঝের গম্বুজের উপর সোনালী চিকনের কাজের জন্য এর আরেক নাম বড় সোনা মসজিদ | পুরো মসজিদটি দৈর্ঘ্যে ১৬৮ ফুট ও প্রস্থে ৭৬ ফুট | বিস্ময়কর স্হাপত্যশৈলী | আবার অনেকে বলেন মসজিদটি উঁচু জায়গায় অবস্থানের জন্য সকালে-সন্ধ্যায় সূর্য্যের সোনালী কিরণ প্রতিফলিত হয় তাই এর নাম সোনা মসজিদ | উত্তরের দিকে মহিলাদের জন্য একটি নির্দিষ্ট প্রকোষ্ঠ ছিল | সেটার ধ্বংসাবশেষ এখনও আছে |

শাহী হুকুমত চলে শাহের মেজাজে আর শাহিকে ধরে রাখে রংবাজ জঙ্গবাজের দল | সুলতানদের আস্ফালনের আসল কারিগর হল তাদের ফৌজ | আর নানা জঙ্গ জিতে এসে ফৌজিরা যে দরজার সামনে এসে আল্লা হো আকবর বলে সুলতানের সামনে দাঁড়াত সেটাকে আপনি বিজয় তোরণ বলতেই পারেন কিন্তু তখনকার গৌড় তাকে চিন্তা সালামী দরওয়াজা বলে | গৌরাঙ্গদা বারদুয়ারী দেখিয়ে আমাদের এনে ফেলেছে এই সালামী দরওয়াজার সামনে | এখানে বিজয়ী সৈনিকরা তোপ দেগে  সুলতানকে সেলাম জানাত | তাই নাম হয়েছে সালামী দরওয়াজা | একটা মত অনুযায়ী নাসিরুদ্দিন আহমদ শাহ ১৪৩২-৪৯ সালের মধ্যে এই দরজা বানিয়েছিলেন | সুলতানের মহলে প্রবেশ করার জন্য এই দরজা বানানো হয়েছিল তাই এর আরেক নাম দাখিল দরওয়াজা | অন্য্ মতে সম্ভবত: নাসিরুদ্দিনের ছেলে বরবক শাহ (১৪৫৯-৭৪ খ্রিস্টাব্দ ) বানিয়েছিলেন এই দরজা | দেখে তাক লেগে যাওয়ার মত শিল্পকীর্তি |

এবার চলে এলুম ফিরোজ মিনারে | ১৪৮৬ থেকে ১৪৮৯ সালের মধ্যে বানানো এই মিনার | ৭৩টি ধাপ-ওয়ালা সর্পিল সিঁড়ি সমৃদ্ধ এই মিনারের উচ্চতা ২৫.৬০ মিটার | গুয়ামালতীপুরে পাওয়া একটি লিপিকে অনুবাদ করেন ঐতিহাসিক ফ্রাঙ্কলিন এবং জানা যায় হাবসি বংশীয় সইফুদ্দিন ফিরোজ শাহ এটি বানান যিনি বরবক শাহকে কোতল করে সুলতান হন |

এবার আপনাকে একটু স্মৃতি হাতড়ানোর সুযোগ দিলাম | বোঝেনা সে বোঝেনা সিনেমাটা মনে আছে? একটা গান মনে করুন | কঠিন তোমাকে ছাড়া একদিন | একটা গেট পেরিয়ে মিমি ডাকছে সোহমকে | যদি মনে না থাকে তবে ইউটিউবে দেখুন আবার | সেই হাতছানি দেওয়ার জায়গাটা আসলে বড় সোনা মসজিদ মানে বারদুয়ারী | গানটার প্রথমদিকের বেশ খানিকটা অংশ শুটিং হয়েছে বারদুয়ারীতে | শেষের দিকে কিছুটা যেখানে শুট হয়েছে সেই কদম রসূল মসজিদে এবার গৌরাঙ্গদা আমাদের নিয়ে এল | রসূল মানে আল্লার পাঠানো দূত |কদম মানে তো জানেনই | রসূলের অর্থাৎ হজরত মহম্মদের পায়ের ছাপ ছিল এই মসজিদে | পাথরের উপর নেওয়া সেই ছাপ বর্তমানে এই মসজিদে আর নেই | সেটা নাকি মহদীপুর খাদেমের কাছে সংরক্ষিত আছে | মখদুম জাহানিজান জাহাঙ্গে নিজে আরব থেকে এই পদচিহ্ন নিয়ে এসেছিলেন বলে বিশ্বাস | পরে সেটা শাহ জালালুদ্দিন তার চিলাখানায় অতি যত্নে রেখেছিলেন | সুফীদের চিলাখানা মানে হিন্দুদের আশ্রমের মত | নানারকম সুফী আছেন | নক্শবন্দি, সোহরাবর্দি, চিস্তিয়া, কাদিরি | সুলতান হোসেন শাহ ওই পদচিহ্নকে গৌড়ে আনেন | কদম রসূল মসজিদে স্হাপন করেন | মসজিদটি সেই নসরত শাহের বানানো | ১৫৩১ সালে | মসজিদের দৈর্ঘ্য ৬৩ ফুট ও প্রস্থ ৫০ ফুট | আমি অবাক হয়ে দেখতে দেখতে একটা কথাই ভাবছিলাম |লা ইলাহা ইল্লাল্লাহ, মহম্মদুর রসূল আল্লাহ | আল্লা সর্বশক্তিমান আর মহম্মদ সেই আল্লারই রসূল |

কদম রসূলের পাশেই নেকবিবির কবর | এই মহিলার স্বামী জল পানের কথা বলে নাকি ঘুমিয়ে পড়েন | নেকবিবি জল এনে স্বামীকে ঘুমন্ত অবস্থায় দেখে সমস্ত রাত জল হাতে দাঁড়িয়েছিলেন | সকালবেলা স্বামী উঠে নেকবিবির এই কথা শুনে আল্লার কাছে তাঁর জন্য পুরস্কার প্রার্থনা করেন | তখন থেকেই নেকবিবি অলৌকিক ক্ষমতা পান | এটি তাঁর সমাধি |

এবার গৌরাঙ্গদার অটো এনে ফেলল চিকা মসজিদে | চিকা মানে বাদুড় | ১৪৫০ সালে তৈরী এই এক গম্বুজের মসজিদ আসলে হয়তো সমাধিক্ষেত্র ছিল | খুব ঝকঝকে , মনোহর, চমকানোর মত সুন্দর ছিল বলে এর আরেক নাম চামকান মসজিদ | এই স্থাপত্যে হিন্দু মন্দির থেকে আনা নানারকম কাজ করা পাথর ও মীনা করা ইঁট ব্যবহার করা হয়েছে | পাশেই গুমটি গেট | সেটিও এক গম্বুজ বিশিষ্ট | ১৫১২ সালে সুলতান হোসেন শাহ বানিয়েছিলেন | এনামেলের টালি দিয়ে সুদৃশ্য অলংকরণ করা হয়েছে |

এবার আবার সেই গানটা মনে করুন | সোহমের সাইকেলে মিমি | সিনটা শুট হয়েছিল লুকোচুরি দরওয়াজার সামনে | দোতলা দরজা | গৌড় দুর্গের প্রবেশের জন্য বানানো | ১৬৫৫ সালে শাহ সুজা বানিয়েছিলেন | নামটা শোনা মনে হচ্ছেনা? শাহজাহানের ছেলে সুজার কথাই বলছি | তখন তিনি সুবে বাংলার কর্তা কিনা | দোতলায় হয়তো নহবত বসত | ভোর নামত আহির ভৈরবে | গোপনে বাদশাহের যাতায়াতের জন্য বানানো বলে হয়তো লুকোচুরি নাম | এই দরজা দিয়ে সাধারনের প্রবেশাধিকার ছিলনা | উচ্চতা ১০ মিটার ৭৫ সেন্টিমিটার | গৌরাঙ্গদা আমাদের পাগল করে দিচ্ছে | যেমন গৌড় তেমন গৌরাঙ্গদা | শুধু আবহাওয়াটা বদলে গেছে | মেঘলা আকাশ | বোঝাই যাচ্ছে এবারে নামবে | আমাদের ফিরতেও হবে অনেকটা পথ | তবু গৌরাঙ্গদা আমাদের এনে ফেলল চামকাটি  মসজিদে | ১৪৭৫ সালে মানে ৮৯৬ আল হিজরিতে বানানো এই মসজিদ | হয়তো সুলতান সামসুদ্দিন ইউসুফ শাহের (১৪৭৪-১৪৮১) রাজত্বে বানানো হয় | অসামান্য মীনা করা ইঁটের কাজ ছিল | কিছু কিছু এখনও আছে | অনেক চামড়ার ব্যাপারী নাকি এখানে নামাজ পড়ত তাই নাকি এর নাম হয়েছে চামকাটি মসজিদ | আবার আরেক মতে কোনও এক সুলতান নিজের হাত থেকে চামড়া কেটে পাখিদের খাওয়াতেন বলে ওই নাম | আল্লাই জানেন কোনটা সত্যি |

বৃষ্টি মাথায় করে হোটেলে এসে ঢুকলাম | ফ্রেশ হয়ে গরম গরম মাটন বিরিয়ানি মেরে দিলাম | দম নয় | তাওয়া বিরিয়ানি | খিদেও পেয়েছিল জোরদার | বিকেলে চলে গেলাম কাছেই শুভঙ্কর শিশু উদ্যানে | বেশ সুন্দর পার্ক | অনেক ফুল গাছ | দারুন ডালিয়া ফুটেছে | তারপর সন্ধে বেলা গিয়ে বসলাম স্টেডিয়ামের গ্যালারিতে | বেশ লাগছিল | সিনেমাতে এই দুটো জায়গাও দেখানো আছে | মনে পড়ছে আপনার? রাতে তাড়াতাড়ি খেয়ে শুয়ে পড়লাম | পরদিন দুপুরে ফেরার ট্রেন | তাই সকালে পাণ্ডুয়া | আদিনা দেখতে যাব | আবার গৌরাঙ্গদার অটো | এবার রেট চারশো টাকা | মাশা-আল্লা |

পান্ডুয়াতে ঢুকে আমাদের সওয়ারি প্রথম এসে থামল একটা সাদা রঙের বাংলা স্টাইলে বানানো দরজার সামনে | এটিরও নাম সালামী দরওয়াজা | ২২ ফুট লম্বা আর ৯ ফুট চওড়া | ইঁট আর পাথর দিয়ে বানানো এই দরজা শেখ শাহ জালালুদ্দিন তবরিজির দরগায় যাওয়ার জন্যে ব্যবহৃত হত |

এবার চলে এলাম একলাখি | এটি একটি বিরাট সমাধিগৃহ | উঁচু ও বিরাট গম্বুজ-ওয়ালা একলাখি বানান রাজা গনেশ বা কংস ১৪১২ থেকে ১৪১৫ সালের মধ্যে | রাজা গনেশের পুত্র যদু কলম পড়ে জালালুদ্দিন হন | এই যদু বা জালালউদ্দিনের জন্যই রাজা গনেশ এই বিশাল সমাধিটি বানিয়েছিলেন | এক লক্ষ টাকা খরচ হয় বানাতে তাই নাকি নাম হয়েছে একলাখি | ভেতরে জালালুদ্দিন ও ও তার স্ত্রী-পুত্রের সমাধি আছে |

গৌড়ের বড় সোনা মসজিদের কথা আগে বলেছি | আপনার মনে প্রশ্ন আসতে পারে যে ওটা বড় সোনা কেন? শুধু সোনা নয় কেন? কারণ ছোট সোনা মসজিদটা এখানে | আসল নাম কুতুব শাহী মসজিদ | উজ্জ্বল ইঁট দিয়ে এককালে সাজানো ছিল বলে সোনা মসজিদ নাম হয়েছে | পিয়ার নূর কুতুব উল আলমের সম্মানে তৈরী হয়েছিল বলে কুতুবশাহী নাম | তৈরী করেন তাঁরই ওয়ারিশ মখদুম আবিদরাজি | আমার কেমন কথা হারিয়ে গেল মসজিদটা দেখে | ১৫৮২ সালে বানানো এই মসজিদে ১০টা গম্বুজ ছিল | এখন সেগুলো প্রায় নেই | তারপরেও যা আছে মাথা ঘুরিয়ে দেয় | সুভান-আল্লা |

অব দিল থামকে ব্যয়ঠিয়ে সাহেবান | হ্যাম আ গ্যয়ে হ্যায় আদিনামে | ভারতের সবথেকে বড় মসজিদ ছিল | জি হুজুর | উত্তরে ও দক্ষিণ ৫০৭ ফুট ও পূর্ব-পশ্চিমে ২৮৫ ফুট চওড়া | রিয়াজ উস সালাতিনের হিসেবে ১৩৬৪ সালে এটি বানানো শুরু হয় | ১৩৬৮তেও নাকি কাজ শেষ হয়নি | শেষে ১৩৭৪ সালে সম্পূর্ণ হয় এই মসজিদ | আরেক নাম জমি মসজিদ | বিরাট খোলা নামাজ পড়ার জায়গা | তার চারদিকে খিলান-ওয়ালা গম্বুজের মত প্রদক্ষিণ করার পথ | পশ্চিমদিকে ইমামের বসার জন্য উঁচু জায়গা | তার উত্তরে উঁচু বাদশা-কি-তখ্ত | এই সিংহাসন সুলতান ও তার পরিবারের মহিলাদের জন্য | পশ্চিমদিকের দেওয়ালের পাশের ঘরে সুলতান সিকান্দার শাহ শুয়ে আছেন যিনি আদিনা বানিয়েছিলেন | এই মসজিদে আপনি শিবলিঙ্গ, পদ্মফুল ও কোরানের বাণীর একসাথে অবস্থান দেখতে পাবেন | কেউ কেউ আদিনাকে আদিনাথ বিহারের উত্তরসূরী বলতে চান | ফার্সি আদিনা শব্দের অর্থ হল জুম্মাবার মানে শুক্রবার | বা এমন হতে পারে মদিনাকে মনে করাবার জন্যে আদিনা | সিরাজও তো তেমন একটা করেছিলেন একটা ছোট করে | হাজারদুয়ারীর সামনে আছে | হোক গে | যে যাঁর মুর্শিদী করে, সে তাঁর কথাই শোনে |আমি আমার মনের মুর্শিদী করে গুনগুন করে গান করতে করতে বেশ জমিয়ে সময়টা কাটালাম | এক পুরনো মসজিদে |

বেরিয়ে পড়লাম | হোটেলে ফিরব | খেতে হবে তারপর ব্যাগ গুছিয়ে মালদা টাউন স্টেশন | ট্রেন ধরতে হবে | ঘরে ফিরতে হবে | অনেক কিছু দেখলাম | তবে অনেক অনেক কিছু দেখা হলনা | একদিন ফিরবো আবার | মালদা নীরবে বলে উঠল, কভি অলবিদা না কহেনা | গৌরাঙ্গদা ছেড়ে দিল হোটেলে | তাঁর হাসিমুখ দেখে আমার মন বলে উঠল, শুকরান |

 

যাঁদের জন্যে এ কাহিনী পেন দিয়ে বেরিয়েছে …….

 

১) শ্রী রাজ্ চক্রবর্তী, নির্দেশক, বোঝেনা সে বোঝেনা | কঠিন তোমাকে ছাড়া একদিন দেখেই মালদা যেতেই হবে প্ল্যান করেছিলাম |

২) শ্রী শ্যামল গঙ্গোপাধ্যায়, লেখক, শাহাজাদা দারাশুকো |

৩) শ্রীমতি সুচন্দ্রা রায়, আমার মা, যিনি আমায় জোর করে শাহজাদা দারাশুকো পড়িয়েছেন |

৪) জনাব আখতার হোসেন, লেখক, পর্যবেক্ষনে গৌড় ও পাণ্ডুয়া, লুকোচুরি গেটের সামনের দোকান থেকে কিনেছিলাম বইটা |

৫) আর্কিওলজিক্যাল সার্ভে অফ ইন্ডিয়া, যাঁরা অসামান্য সুন্দর করে রেখেছেন প্রত্যেকটা জায়গা ও তথ্যবহুল বোর্ড বসিয়েছেন | নইলে এই সাল-তারিখ আমার মত ফালতু ছাত্রের মাথায় ঢুকতনা |

৬) আপনি |

উপরের সবাইকে অনেক ভালবাসা | খোদা হাফেজ |

IMG_5160_Fotor
বারদুয়ারী মসজিদে , এদের আবদার ছিল ফটো তুলে দিতে হবে
IMG_5204_Fotor
বারদুয়ারী মসজিদ, সামনের ভিউ
IMG_5190_Fotor
বারদুয়ারী মসজিদের ভেতরে
IMG_5180_Fotor
বারদুয়ারী মসজিদের করিডোর
IMG_5226_Fotor
দাখিল দরওয়াজা – সালামী দরওয়াজা
IMG_5221_Fotor
দাখিল দরওয়াজার ভেতরে
IMG_5251_Fotor
ফিরোজ মিনার
IMG_5265_Fotor
কদম রসুল
IMG_5264_Fotor
কদম রসুলে ঢোকার পথ
IMG_5270_Fotor
কদম রসুল
IMG_5266_Fotor
নেকবিবির মাজার – ফতে খানের মাজার 
IMG_5273_Fotor
কদম রসূলের ভেতরে
IMG_5278_Fotor
পুরনো ধ্বংসাবশেষ, কদম রসূলের উল্টো দিকে
IMG_5284_Fotor
কদম রসুল
IMG_5299_Fotor
হঠাৎ দেখা লাল জবা | কদম রসূলের পাশে
IMG_5308_Fotor
লুকোচুরি দরওয়াজা
IMG_5314_Fotor
চিকা মসজিদ
IMG_5319_Fotor
গুমটি গেট
IMG_5326_Fotor
গুমটি গেট
IMG_5337_Fotor
চামকাটি মসজিদ
IMG_5339_Fotor
সালামী দরওয়াজা
IMG_5343_Fotor
একলাখি
IMG_5346_Fotor
একলাখির ভেতরে
IMG_5360_Fotor
কুতুব শাহী মসজিদ
IMG_5388_Fotor
আদিনার ভেতরে
IMG_5431_Fotor
আদিনা
IMG_5451_Fotor
একলাখি
IMG_5454_Fotor
আম বাগান

 

Advertisements

Leave a Reply

Fill in your details below or click an icon to log in:

WordPress.com Logo

You are commenting using your WordPress.com account. Log Out /  Change )

Google+ photo

You are commenting using your Google+ account. Log Out /  Change )

Twitter picture

You are commenting using your Twitter account. Log Out /  Change )

Facebook photo

You are commenting using your Facebook account. Log Out /  Change )

Connecting to %s